দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মাদ্রাসাশিক্ষক, প্রবাসী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা চাঁদাবাজি মামলা প্রত্যাহার এবং হয়রানি বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে উপজেলার মহিপুরের পাইকবাড়ী স্ট্যান্ড এলাকায় এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় দুই শতাধিক স্থানীয় বাসিন্দা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মাদ্রাসাশিক্ষক, প্রবাসীসহ কয়েকজন নিরীহ ব্যক্তিকে চাঁদাবাজি মামলায় আসামি করা হয়েছে। তাদের দাবি, মামলাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এর মাধ্যমে আসামিদের হয়রানি করা হচ্ছে। দ্রুত মামলা প্রত্যাহার ও হয়রানি বন্ধের দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মাওলানা মো. আইয়ুব আলী। তিনি বলেন, ‘মাদ্রাসাশিক্ষক মাহতাব উদ্দিন ও প্রবাসীসহ স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমরা এ মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। যাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে, তারা অত্যন্ত ভালো মানুষ। এলাকায় তাদের সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ নেই। একই সঙ্গে নিরীহ মানুষকে হয়রানি বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই।’
বক্তব্যে ফাতেমা বেগমসহ স্থানীয় আরও কয়েকজন বলেন, জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধ আইনগতভাবে নিষ্পত্তির সুযোগ রয়েছে। কিন্তু এর জেরে নিরীহ মানুষকে মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। তারা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং নিরপরাধ ব্যক্তিদের হয়রানি বন্ধের দাবি জানান।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কয়েকজন বলেন, মামলায় শিক্ষক, প্রবাসী ও স্থানীয় সাধারণ মানুষকে আসামি করা হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা যাচাই করে নির্দোষ ব্যক্তিদের মামলা থেকে অব্যাহতির ব্যবস্থা করতে হবে।
জানা গেছে, সম্প্রতি জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে শিক্ষক মাহতাব উদ্দিনের ছাত্র ইমরান হোসেন বাদী হয়ে মহিপুর থানায় একটি চাঁদাবাজি মামলা করেন। মামলায় লতিফপুর ও মনোহারপুর এলাকার আটজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তদন্ত করছে বলে জানা গেছে।
মামলার আসামিরা হলেন মো. দেলোয়ার হোসেন (৩৭), আব্দুল মতিন গাজী (৩৫), মো. শহিদুল ইসলাম (৩৫), মাওলানা মো. মাহতাব উদ্দিন (৫৫), মো. আলতাফ হোসেন গাজী (৫৫), মো. রাজু খলিফা (২৫), মো. শাহিন মীর (৩৮) ও মঞ্জু হাওলাদার (৩৭)।
তবে মামলার অভিযোগ ও আসামিদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থার চূড়ান্ত বক্তব্য বা তদন্তের ফলাফল পাওয়া যায়নি। মানববন্ধন থেকে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হলে আসামিদের হয়রানি বন্ধের দাবি জানানো হয়।
এমএম/